জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ৬.৭%

বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে টানা নয় নিলামে নিম্নমুখী ছিল।

বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে টানা নয় নিলামে নিম্নমুখী ছিল। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই এ পণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩০ ডলারে, যা গত অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। খবর ইডেইরি নিউজ ও ফারমারস উইকলি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, সর্বশেষ জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রে ননিছাড়া গুঁড়া দুধের (এসএমপি) সরবরাহ কমে যাওয়া। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য থেকে নতুন করে ক্রয় চাহিদা বৃদ্ধিকে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের (ডব্লিউএমপি) মৌসুমি চাহিদা কমার আগেই এ ক্রয় শুরু হয়েছে।

জিডিটির এবারের নিলামে ডব্লিউএমপির দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ৬১৪ ডলারে পৌঁছেছে। এ সময় এসএমপির দাম বেড়েছে আরো বেশি। পণ্যটির টনপ্রতি মূল্য পৌঁছেছে ২ হাজার ৮৭৪ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

জিডিটির এবারের নিলামে দুগ্ধজাত পণ্য বেচাকেনার পরিমাণ কমে ২৪ হাজার টনে নেমে এসেছে, দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল প্রায় ২৮ হাজার টন।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডে দুধের সরবরাহ এখনো তুলনামূলক বেশি। ডিসেম্বরে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি ছিল। এর পরও বাড়তি চাহিদার কারণে বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়ছে। এছাড়া ফিউচার মার্কেটে দুধের দামও বেশি। চলতি মৌসুমের দুধের জন্য আগাম চুক্তিগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজিএমএসে (কেজি মিল্ক সলিড) প্রায় ৯ ডলার ৫২ সেন্ট। আর পরের মৌসুমের জন্য চুক্তির দাম ধরা হচ্ছে প্রতি কেজিএমএসে প্রায় ৯ ডলার (নিউজিল্যান্ড ডলার) ২৫ সেন্ট।

জিডিটির সর্বশেষ নিলামে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৬ হাজার ৫২৪ ডলারে পৌঁছেছে। এ নিলামে মাখনের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য পৌঁছেছে ৫ হাজার ৭৭৩ ডলারে। এছাড়া বাটার মিল্ক পাউডারের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ১৪৭ ডলার।

জিডিটিতে চেডার পনিরের টনপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭২ ডলার, যা আগের নিলামের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এ সময় ল্যাকটোজের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য পৌঁছেছে ১ হাজার ৪১০ ডলারে। এছাড়া মোজারেলা পনিরের দাম ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৪ ডলারে।

আরও